বড়পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) বলেছেন, তুমি যদি কাউকে মহব্বত কর তবে তা করবে আল্লাহর জন্য, আর যদি কারও সাথে শত্রুতা রাখ, তবে তাও রাখবে আল্লাহর জন্য, ব্যক্তি স্বার্থে কারও সাথে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা পোষণ করেব না।
এর অর্থ হলো, যদি কারও সাথে তুমি বন্ধুত্ব স্থাপন করতে চাও, তবে তার স্বভাব-চরিত্র, আমল-আখলাক, আকিদা ও বিশ্বাস দেখবে এবং পর্যালোচনা করবে। যদি তাকে তাওহিদে বিশ্বাসী এবং
রাসুলেপাকের তরিকার উপর দেখতে পাও, তাহলে তার সাথে মৈত্রী ও সখ্য স্থাপন করা তোমার জন্য সিদ্ধ। আল্লাহর দরবারে তোমার এ কাজ প্রশংসনীয় হবে।
আর যদি তার আমল, আকিদা, তাওহিদ এবং রাসুলেপাকের সুন্নাতের বিপরীত হয় হয় তাহলে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করা তোমার জন্য অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহর খুশী হাসিলের জন্য ঐরূপ লোক থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যকথায়, তুমি কোন তাওহিদবাদী, রাসুলের তরিকার অনুসারী পরহেজ লোকের সাথে মহব্বত রাখবে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে। কোনটাই যেন তোমার ব্যক্তিস্বার্থে বা পার্থিব লক্ষ্যে না হয় কেননা, যে বন্ধুত্ব এরূপ উদ্দেশ্যে স্থাপিত হয়, নিঃসন্দেহে তা ক্ষণকাল স্থায়ী হয় এবং শীঘ্রই পরস্পরের মধ্যে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি হয়, অশান্তি দেখা দেয়। একইভাবে যদি কারও সাথে ব্যক্তিগত কারণে তথা পার্থিব উদ্দেশ্যে শত্রুতা করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে পরস্পরের মধ্যে জুলুম এবং হানাহানির কারণ হয়ে দেখা দেয়, যা উভয়ের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে।
বস্তুতঃ যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সৎলোকের সাথে বন্ধুত্ব করে, আল্লাহও আখেরাতে তার প্রিয় বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে শামিল করে নেন, তারা এ কাজের জন্য নবী, রাসুল, সিদ্দিকিন এবং শোহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন। এর কারণ হলো, খোদ হুজুরেপাক (সা.) সর্বদা শুধু আল্লাহরই উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব করতেন এবং একই উদ্দেশ্যে শত্রুতা পোষণ করতেন এবং এটাই ছিল তার সর্বোত্তম চারিত্রিক নিদর্শন। তাছাড়া তিনি তাঁর উম্মতদের প্রতিও এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন যে,
তোমরা বন্ধুত্ব স্থাপন করবে আল্লাহর ওয়াস্তে এবং শত্রুতাও পোষণ করবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে।অলিআবদালদের দস্তুরু এইরূপ। যারা এর খেলাফ করে তারা আল্লাহর দরবারে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই অভিশপ্ত। আল্লাহ এ ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন যে,
তোমরা কখনো তোমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। কেননা তা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেবে।
- [সূত্র : ফতুহুল গয়ব, হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)]

মা-শাহ-আল্লাহ
উত্তরমুছুন