মদিনা মুনাওয়ারার মুহাম্মদ (সা )এর মসজিদে শায়িত হুজুরে পাকের দেহ মোবারক নিয়ে লন্ডনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা একটি বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির মতে মসজিদ কর্তিপক্ষ তার পবিত্র দেহ - মসজিদের পাশে জান্নাতুল বাকীতে গোপনে সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করেছে।
কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে পরিদর্শন কারীরা নবী (সা ) এর কবরের দিকে হাত তুলে নবীর কাছে দোয়া করেন। হাত যেকোন দিকে তোলা যায় কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে প্রার্থনা করা শেরেকী। এজন্যে ৬৫ পাতার একটি সুপারিশ মালা কিছু সংশ্লিস্ট ব্যক্তিদের কাছে নাকি পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদটিতে দাবি করা হয়েছে। ওহাবীদের -- মাজার এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা বিরোধী দর্শনকে এই সিদ্ধান্তের জন্যে দায়ী করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে এতে সরকারী কোনো নির্দেশনা আছে কিনা তা জানা যায়নি।
এই সংবাদটি সর্বৈব মিথ্যা। সারা পৃথিবীতে ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার নব্য ভয়ঙ্কর একটি আন্তজার্তিক চক্রান্তের অংশ বলে মনে করেন আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গরা। অনেক বুজুর্গ বলেন ইসলামকে কেন্দ্র করে যে অন্তর্ঘাতী যুদ্ধ, রক্তপাত, এবং মুসলমান ও তাদের দেশ গুলিকে টুকরা করে মুসলমানদের রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল করে শেষতক তাদেরকে ইমান হারা করার একটি বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে প্রচন্ড শক্তিধর কেউ কাজ শুরু করেছে। মক্কার আসল কোরেশ বংশের একজন আমল করনেওয়ালা সুফী যিনি মিডিয়াতে নেই ,সন্দেহ পোষণ করছেন- দাজ্জাল প্রকাশিত, সে তার কাজ শুরু করেছে- মানুষকে ইমান থেকে দুরে সরানোর জন্যে, এবং ইসলামকে ধ্বংস করার জন্যে।
উপরোক্ত সংবাদটি যে মিথ্যা তার দলিল গুলি সব ঈমানদার মুসলমানদের জানা দরকার।
১) নবী (সা ) এর মৃত্যর আগে উনি নির্দেশ দিয়েছেন, নবীদের যেখানে মৃত্য হয় সেখানেই তাকে কবর দাও. উনি বলেছেন আমার ভয় হয় আমার কবরকে তোমরা পূজার স্থান না বানাও। এই কারণে ২৪ ঘন্টা রওজার চারপাশে ধর্মীয় গার্ডরা থাকেন যারা বিনীত ভাবে জিয়ারিতিদের সতর্ক করেন।
২) হুজুর পাক (স ) নির্দেশে দিয়ে গেছেন - কেয়ামতের আগে যখন দাজ্জাল আর ইহুদীদের পরিবর্তন অথবা ধ্বংশ সাধনের জন্যে ইসা ( আ ) কে আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠাবেন, তিনি ৪৫ বছর বাচবেন এবং তার মৃত্যুর পর যেন নবী (সা ) এর কবরের পাশে বা ওপরে কবর দেয়া হয়, যাতে তারা একত্রে কেয়ামতের দিনে উঠতে পারেন।
৩) নবী (স ) এর কবরের পাশে আরো দুই জনের কবর আছে, হজরত আবু বকর (রা ) এবং হজরত ওমর (রা). মা আয়েশার অনুমতি নিয়ে তার থাকার জায়গায় হজরত ওমর (রা ) কে দাফন করা হয়.
৩) প্রায় তিনশ বছর আগে একবার হুজুরে পাকের (স ) দেহ মোবারক সুরঙ খুড়ে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল ইহুদীরা, নবী (স) সেটা ততকালীন মদিনার সুলতানকে কয়েকদিন স্বপ্নে জানান এবং সুলতান আলেমদের সাথে পরামর্শ করে দুর্বৃত্তদের ধরে ফেলেন এবং তারা অপরাধ স্বীকার করে. এরপর আলেমদের পরামর্শে ওনাদের কবরের জায়গার চারপাশ চওড়া করে সীসা ঢেলে সিল গালা করে রাখা হয়েছে। মসজিদে নবীর আর্কিটেকচারাল ডিজাইন দেখলে বোঝা যাবে এই রওজা সরানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। ডিজাইন টি এই পোস্টে সংযুক্ত আছে।
৪) বর্তমানে যারা জিয়ারত করতে যান এবং সোনালী রঙের যে ফাঁকা বেড়া টি দেখেন তার পাশেই কিন্তু ওনাদের কবর নয়- রওজা অনেক নীচে। এটা নিরাপত্তার জন্যে করা হয়েছে। ডিজাইন দেখুন।
৫) নবী (সা ) আর এক হাদিসে বলেন, সব পয়গম্বর যারা তাদের লোকজনের অত্যচারে নিজের এলাকা থেকে থেকে পালিয়ে এসেছেন, তারা মক্কায় এসে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর এবাদত করেছেন। সে কারণে জমজম আর মাকামে ইব্রাহিমের মাঝে হুদ , শুয়ায়েব ,এবং সালেহ (আ ) দের কবর আছে. কাবার ভিতরে আছে ৩০০ কবর, রুকনে ইয়ামেনি থেকে রুকনে আসওয়াদ পর্যন্ত আছে ৭০ জনের কবর. হাতিমে আছে ইসমাইল (আ) এর কবর. তাদের কবরের ওপর কাবা আর হারাম মসজিদ বানানো হয়েছে। এর মানে আবার এই নয় যে আমরা কাবা শরীফে এই পয়গম্বরদের কবর এবাদত করি. আমরা একমাত্র আল্লাহর এবাদত করি. এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি নবী (স ) এর রওজা কোনো কারণেই মসজিদের নামাজ পড়ার জন্যে কোনো অন্তরায় হতে পারেনা।
(হাদিস টি বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল ফাখিহ )
৬) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার পবিত্র গ্রন্থ কোরানে পরিষ্কার বলেছেন, দুই মসজিদ রক্ষার দায়িত্ব আমার নিজের, কাবা এবং নবী (স) এর মসজিদ। নবী (সা ) দেহ মোবারক সরালে নবীর মসজিদ সাধারণ মসজিদ হয়ে যাবে। আমি নিশ্চিত কেউ এটা চেষ্টা করলে আমরা ফেরেস্তাদের লড়াই করতে দেখবো বদরের যুদ্ধের মত। কারণ নবী (স) বলেছেন কেয়ামতের আগে দাজ্জাল তার পুরো বাহিনী নিয়ে মদিনা দখল করতে আসবে এবং তারা যখন মদিনার কাছাকাছি পৌছবে, উনি যে জায়গার কথা বলেছেন সেখানে এখন সরকারী কোরান প্রিন্টিং প্রেস অবস্থিত, সেখানেই তখন ফেরেস্তারা তাদেরকে সরাসরি আটকাবে। পরদিন সকালে দাজ্জালের বাহিনীকে মাটির ধ্বস সিংক হোলের মতো নীচে টেনে অদৃশ্য করে দেবে আল্লাহর কুদরতে ।
৭) দাজ্জাল সম্ভবত প্রকাশিত। তার ফেতনা অর্থাত বিভ্রান্ত করার শক্তি অপিরিসীম। ফেস বুকের বিভিন্ন পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে অনেক মানুষ প্রতিদিন ঈমানহারা হচ্ছেন। যারা ইমান বাচাতে চাই তারা নামাজ পড়ি, আল্লাহর বিধানগুলি মেনে চলি, মানুষকে ভালবাসতে শিখি, কাউকে ঘৃনা না করি।
৮) নবী (স )যেভাবে চাইতেন সে ভাবে পৃথিবীর সর্ব শেষ মানুষটি আল্লাহর সাথে জুড়ে যাক, আল্লাহকে মাননে ওয়ালা হয়ে যাক, আমরা সেটা করি ভালবাসা দিয়ে - বুলেট দিয়ে নয়। বিভ্রান্ত তাক্ফিরী জাতীয় বুলেটের দাওয়াত যা নিরীহ মানুষদের হত্যা করায় , অবিচার করায়, তা উল্টা কামানের গোলা হয়ে ইসলামকে ধংশ করছে। ভালবাসা আর আমলের দাওয়াত মানুষের অন্তরকে বদলাবে-আল্লাহ এবং ইসলামকে গ্রহণ করতে শেখাবে। তবে হ্যা , ইসলামে কখনো কখনো বুলেটের ব্যবহার করতে হয়- কিন্তু তার জন্যে দরকার খাটি আকিদা এবং সমগ্র উম্মার জেহাদের সিদ্ধান্ত -- যা হবে রাজনীতির উর্দ্ধে, তা দেশ দখলের জন্যে নয়- তা হবে একমাত্র আল্লাহর জন্যে। মানুষকে আল্লাহর সাথে জুড়ে দেয়ার জন্যে।
৯) নবী (স ) বলেছেন, দাজ্জালের বিভ্রান্তি থেকে বাচতে হলে নিয়মিত সুরা কাহাফ পড়বে।
১০) আমি অযোগ্য গুনাহগার মানুষ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল কিছু বলে থাকলে মাফ করবেন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যি বোঝার তৌফিক দিন, আমীন .
http://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/saudis-risk-new-muslim-division-with-proposal-to-move-mohameds-tomb-9705120.html
উৎস : ডা. আরিফুর রহমানের ফেসবুক থেকে


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন