গাউসুল আযম, বড়পীর হযরত আবদু্ল কাদির জিলানী (রহ.) বলেছেন, অামি একদিন এরূপ একটি স্বপ্ন দেখলাম, যেন আমি মসজিদেরর ন্যায় কোন একটি স্থানে অাছি, সেখানে এমন একদল দরবেশ রয়েছেন, যাদের দুনিয়ার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। অামি মনে মনে বললাম,
এদেরকে যদি অমুক পীর সাহেব কিছু উপদেশ দান করতেন, তবে খুবই ভালো হতো। (কোন একজন বুজুর্গ ব্যক্তির কথা খেয়াল করেছিলাম।)
এমন সময় ওই দরবেশগণ আমার চারপাশে এসে বসে পড়লেন। তাদের মধ্যে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কে, আপনার অবস্থা কী? আপনি আমাদের কিছু নসিহত শোনাচ্ছেন না কেন? আমি তাদেরকে কিছু উপদেশমূলক বাণী শোনাতে শুরু করলাম-
যখন তোমরা দুনিয়া তরক করে পুরোপুরি আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে, তখন আল্লাহর সৃষ্টি বান্দার নিকট মুখ ফুটে কিছু চাইবে না। শুধু মুখ দ্বারা নয়, অন্তর দ্বারাও বান্দার সাহায্য কামনা করবে না। কেননা মুখে চাওয়া বা অন্তরে কামনা করায় কোন পার্থক্য নেই, দুটোই সমান। দুটোই অন্যায়। কোন বান্দাই কারো চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এ কাজে সক্ষম শুধু আল্লাহ তায়ালা। কার কী প্রয়োজন, কাকে কী দিতে হবে, কার থেকে কী নিয়ে যেতে হবে, এসবের ভাবনায় এবং বাস্তবায়নে একমাত্র তিনিই রয়েছেন।
অনুক্ষণ তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থার পরিবর্তন করছেন। কারও অবস্থা উচ্চ এবং কারও-বা নিম্ন, এটা তিনিই ঘটাচ্ছেন। কখনও কাউকে-বা তিনি মর্যাদার উচ্চ শিখরে আরোহণ করাচ্ছেন আবার কাউকে-বা অবনতির নিম্নতম স্তরে ফেলে দিচ্ছেন।
এমতাবস্থায় যাকে উচ্চস্থানে আরোহণ করিয়েছেন, তার মনে এ ভয় রাখতে হবে যে, না-জানি কখন আল্লাহ তাকে এই স্তর থেকেনিম্নস্তরে ছুড়ে ফেলেন। আর যাকে আল্লাহ নিম্নস্তরে ফেলে রেখেছেন, তার মনে এই আশা থাকতে হবে যে, যেকোন মুহূর্তে হয়তো আল্লাহ তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করবেন। এরূপ ভয় ও আশা দুটোই মনে পোষণ করার কারণ হলো, আল্লাহ পাক স্বয়ং ওয়াদা করেছেন,
“আমি যখন যাকে ইচ্ছা উচ্চে উঠাই এবং যাকে ইচ্ছা নিম্নে নামিয়ে দেই। আর সেটাই বাস্তবাতিও হচ্ছে।”
এই উপদেশ বাণী প্রদান করার পরই আমার ঘুম ভেঙে গেল। অতঃপর আমি এই দুরূদ পাঠ করলাম-
“আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা সাইয়্যিদিল খালক্বি মুহাম্মাদিও ওয়া আলিহি ওয়া আছহাবিহি আজমাইন”।
- [সূত্র : ফতুহুল গয়ব, হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)]

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন